শুক্রবার ২ অক্টোবর ২০২৬ - ২০:০০
শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ ছিলেন ইসলামী মর্যাদা ও গৌরবের প্রতীক

হুজ্জাতুল ইসলাম সাইয়্যেদ নাকী মাহদি জাইদি বলেছেন, আয়াতুল্লাহ শুবাইরি জাঞ্জানি (রহ.) জ্ঞান ও ফিকাহশাস্ত্রের ক্ষেত্রে এক স্থায়ী ঐতিহ্য রেখে গেছেন। আর শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ (রহ.) সমকালীন যুগে ইসলামী মর্যাদা ও গৌরবের এক বাস্তব প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের তারাগড়ের পাঞ্জতানি মসজিদে আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সাইয়্যেদ মুসা শুবাইরি জাঞ্জানি (রহ.), শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ (রহ.) এবং সত্যের পথে শাহাদাতবরণকারী অন্যান্য শহীদদের স্মরণে এক আলোচনা ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে একদল আলেম ও ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে ভারতের তারাগড়ের জুমার ইমাম হুজ্জাতুল ইসলাম সাইয়্যেদ নাকী মাহদি জাইদি জ্ঞান ও আলেমদের মর্যাদা, নেতৃত্ব ও মারজাইয়াত এবং শাহাদাত ও প্রতিরোধের সংস্কৃতি নিয়ে বক্তব্য দেন।

আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সাইয়্যেদ মুসা শুবাইরি জাঞ্জানি (রহ.)-এর বৈজ্ঞানিক ও আধ্যাত্মিক মর্যাদা স্মরণ করে তিনি বলেন, এই মহান মারজা তাঁর বরকতময় জীবনের পুরোটা সময় জ্ঞান ও ফিকাহশাস্ত্রের চর্চা, আহলে বাইত (আ.)-এর শিক্ষা প্রচার, তালাবা ও ফাজেলদের শিক্ষা-দীক্ষা এবং দ্বীনের সেবায় ব্যয় করেছেন।

তিনি আরও বলেন, আয়াতুল্লাহ শুবাইরি জাঞ্জানি (রহ.)-এর জ্ঞান, তাকওয়া, দুনিয়াবিমুখতা ও নৈতিক গুণাবলি হাওজা ইলমিয়ার জ্ঞানগত ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের একটি উজ্জ্বল অংশ। তিনি বহু বছর পবিত্র হযরত ফাতেমা মাসুমা (সা.)-এর মাজারে জামাতের নামাজ পরিচালনা এবং জিয়ারতকারী ও মুমিনদের ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

এই ভারতীয় আলেম তাঁর ব্যাপক জ্ঞানচর্চার কথা উল্লেখ করে বলেন, আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সাইয়্যেদ মুসা শুবাইরি জাঞ্জানি (রহ.) জীবনের দীর্ঘ সময় ফিকাহ ও উসুল, হাদিস ও রিজালশাস্ত্র, শিক্ষা-প্রশিক্ষণ এবং কুরআন ও ইতরাতের (আ.) জ্ঞান প্রচারে গবেষণা ও পাঠদানে ব্যয় করেছেন। তাঁর রচিত বৈজ্ঞানিক গ্রন্থসমূহ এবং তাঁর হাতে গড়ে ওঠা অসংখ্য শিষ্য হাওজা ইলমিয়ার জন্য এক স্থায়ী ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

তারাগড়ের জুমার ইমাম পবিত্র হাদিস «إِذَا مَاتَ الْعَالِمُ ثُلِمَ فِی الْإِسْلَامِ ثُلْمَةٌ لَا یَسُدُّهَا شَیْءٌ» উল্লেখ করে বলেন, একজন আলেমের মৃত্যু ইসলামের এমন এক ক্ষতি সৃষ্টি করে, যা কোনো কিছু দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, আয়াতুল্লাহ আল-উজমা হাজি সাইয়্যেদ মুসা শুবাইরি জাঞ্জানি (রহ.)-এর ইন্তেকাল হাওজা ইলমিয়া, শিয়া মুসলিম বিশ্ব এবং গোটা ইসলামী বিশ্বের জ্ঞানী ও ধর্মীয় সমাজের জন্য এক বিরাট ক্ষতি।

শহীদ নাসরুল্লাহ ছিলেন ইসলামী মর্যাদার প্রতীক

বক্তব্যের আরেক অংশে প্রতিরোধের শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ (রহ.)-এর দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকীর কথা উল্লেখ করে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন সাইয়্যেদ নাকী মাহদি জাইদি বলেন, শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ শুধু একজন রাজনৈতিক বা সামরিক নেতা ছিলেন না; বরং সমকালীন যুগে তিনি ইসলামী মর্যাদা ও গৌরবের এক বাস্তব প্রতীকে পরিণত হয়েছিলেন।

তিনি বলেন, সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর শাহাদাতের মাধ্যমে তিনি যে পথ ও চিন্তাধারায় অগ্রসর হয়েছিলেন, তা শেষ হয়ে যায়নি; বরং তা অব্যাহত থাকবে। কারণ এই পথ একটি চিন্তাগত ও ঈমানি ধারার ওপর প্রতিষ্ঠিত, যার শিকড় উপড়ে ফেলা এবং এর প্রভাব ও ফলাফল নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব নয়।

এই ধর্মীয় বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, শাহাদাতের প্রতি আকাঙ্ক্ষা ছিল বিপ্লবী ব্যক্তিত্বদের অন্যতম উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর ব্যক্তিত্বেও এ বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছিল।

তিনি উল্লেখ করেন, বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় এক বক্তব্যে শহীদ নাসরুল্লাহ স্পষ্ট ও সাহসিকতার সঙ্গে বলেছিলেন: «أنا أرید أن أموت شهیداً ولا خائناً»-অর্থাৎ, আমি শহীদ হয়ে মৃত্যুবরণ করতে চাই, বিশ্বাসঘাতক হিসেবে নয়।

অনুষ্ঠানের শেষে আয়াতুল্লাহ আল-উজমা সাইয়্যেদ মুসা শুবাইরি জাঞ্জানি (রহ.), শহীদ সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহ (রহ.) এবং সত্যের পথে শাহাদাতবরণকারী অন্যান্য শহীদের স্মৃতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। একই সঙ্গে জ্ঞান, মারজাইয়াত, প্রতিরোধ ও শাহাদাতের পথ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha